চোখ সমস্যা এবং হায়দ্রাবাদ L V Prasad Eye Institute
এই চোখের হসপিটালের নাম এখন সারা ভারত এবং আশেপাশের দেশসমূহ ও জানে। এখানকার ব্যাবস্থাপনা এত সুন্দর যে অন্য রাজ্য বা দেশ থেকে আসা অসুস্থ মানুষের এখানে চিকিৎসা করাতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয় না।
এপয়েন্টমেন্টঃ
কোন্ ডাক্তারকে দেখাবেন সেটা আপনার আগে থেকে না জানলেও সমস্যা নেই, পেশেন্টের সমস্যা অনুযায়ী ওনারাই ঠিক করে দেন কোন্ ডাক্তার দেখবেন। হসপিটাল থেকে মেইল করে বা ফোন করে appointment এর সময় ও তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়। সময়ের আধঘন্টা আগে হসপিটালে পৌঁছাতে বলা হয়, তবে যদি সকালে যেতে পারেন নামটা আগে রেজিস্ট্রেশন হয় এবং ডাক্তার দেখানোও তাড়াতাড়ি হয়।
অ্যাটেনডেন্টঃ
প্রত্যেক পেশেন্টের সঙ্গে একজন করে বাড়ীর লোক যেতে পারে, তবে খুব ছোট বাচ্চা হলে সম্ভবতঃ মা-বাবাকে যেতে দেয়। হসপিটাল বিল্ডিংএর ভেতরে হসপিটালের কর্মচারী এবং পেশেন্ট ও তার বাড়ীর একজন লোক ছাড়া আর একটিও বাইরের লোক ঢুকতে পারে না। বিল্ডিং এর গেটে দুজন দাঁড়িয়ে থাকে তাদের ফোনের মেসেজে appointment এর সময় ও তারিখ দেখাবেন। তারপর ওরা দুজনের হাতে দুটি ভিন্ন রং এর ( পেশেন্ট এবং অ্যাটেনডেন্ট) রিস্টব্যাণ্ডের মতো কাগজ লাগিয়ে দিবেন। ঐ ব্যাণ্ড ছাড়া কেউ ভেতরে যেতে পারবে না। কোন্ ফ্লোরে কোন্ পেশেন্টের রেজিস্ট্রেশন হবে সেটা ঐ appointment message দেখেই বলে দেওয়া হয়। সেই ফ্লোরে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ওয়েটিং লাউঞ্জে অপেক্ষা করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনঃ
রেজিস্ট্রেশন তিনটে ক্যাটিগেরিতে হয়, general , supporter এবং sight saver। এই তিন রকম ক্যাটাগেরিতেই চিকিৎসা একই হয়, শুধু মাত্র কিছু সুবিধা ও সাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়। যেমন, অপেক্ষার সময়টা কম লাগে, ওয়েটিং লাউঞ্জ একটু বিলাসবহুল, হসপিটালের ভেতরে গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা ইত্যাদি। এই supporter এবং sight saver ক্যাটাগেরিতে শুধু রেজিস্ট্রেশনই নয়, প্রয়োজনীয় টেস্ট বা অন্যান্য সব খরচ ২ থেকে ৫ গুন বেশী জেনারেলের থেকে এবং সেই উদ্বৃত্ত টাকা দিয়েই জেনারেলের পেশেন্টদের অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিৎসা করা হয়। মনে হচ্ছিল সব জায়গায় যদি এমন ব্যবস্থা থাকতো কত দরিদ্র মানুষ সুচিকিৎসার সুযোগ পেত।
রেজিস্ট্রেশনের সময় জানিয়ে দিতে হয় পেশেন্ট কোন্ ক্যাটিগেরি নেবে, নাহলে পরে পাল্টাতে গেলে অসুবিধা হয়। রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারে একেবারেই ভীড় নেই, খুব বেশী হলে সাত/আট জন মানুষ থাকে একসাথে। তার মধ্যে চার জন পেশেন্ট, চারজন তার বাড়ীর লোক। কাউন্টারে চার/পাঁচ জন হসপিটালের কর্মচারী থাকেন যারা সব রকম ভাবে রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করবেন। এর পর বিলিং কাউন্টারে টাকা জমা দিতে হবে, এখানেও এক/দুজনের বেশী লোক নেই। কোথাও ভীড়, হল্লা, দৌড়োদৌড়ি নেই – সব কিছু অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত।
তিন রকম ক্যাটাগেরির জন্য আলাদা আলাদা লাউঞ্জ আছে, সেখানে অপেক্ষা করতে হবে। সময় হলে হসপিটালের কর্মী এসে ডেকে নিয়ে যাবে। প্রথমে optometrist চোখের power ঠিক করবেন। এই বিষয়ে ওনাদের দক্ষতা এবং নিখুঁত power দেবার প্রচেষ্টা অবাক করার মতো। অসংখ্য বার লেন্স পাল্টে পাল্টে একেবারে নিখুঁত power দেবার চেষ্টা করেন।
এবার লাউঞ্জে ফিরে চোখে ড্রপ দিয়ে আবার একটু অপেক্ষা করতে হবে। ওনারাই আবার ডেকে নিয়ে যাবেন, প্রথমে junior doctor দেখবেন তারপর senior doctor। অপ্রয়োজনে ওখানে কোনো টেস্ট করতে বলা হয় না। পুরোনো রিপোর্ট দেখে ওনারা সিদ্ধান্ত নেন নতুন করে কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন আছে কি না।
কিছু প্রাসঙ্গিক কথা
১. কিভাবে পৌছেবেন?
হায়দ্রাবাদ দুভাবে যাওয়া যেতে পারে, ট্রেনে বা ফ্লাইটে। হায়দ্রাবাদে দুটি রেলওয়ে স্টেশন আছে, সেকেন্দ্রাবাদ ও হায়দ্রাবাদ ডেকান নামাপল্লী। হায়দ্রাবাদ স্টেশন থেকে হসপিটালের দূরত্ব আট কিলোমিটার মতো, আর সেকেন্দ্রাবাদ স্টেশন থেকে হসপিটালের দূরত্ব এগারো কিলোমিটার মতো। রাজীব গান্ধী এয়ারপোর্ট থেকে হসপিটালের দূরত্ব তেত্রিশ কিলোমিটার।
হায়দ্রাবাদ শহরে সর্বত্র উবার অটো এবং ট্যক্সি পাওয়া যায়। এছাড়া ফ্লাইং অটো প্রচুর পাওয়া যায়, তবে এই অটোতে ভীষণ উল্টোপাল্টা টাকা চায়। একটু দরদাম করতে হয়। সবচেয়ে ভালো হয় উবার অটোতে ভাড়া দেখে নিয়ে তারপর ভাড়া ঠিক করলে।
২. থাকবেন কোথায়?
হসপিটালের আশেপাশে বানজারা হিলস্-এ বেশ কিছু গেস্ট হাউস আছে। এছাড়া শহর জুড়েই বিভিন্ন মানের ও দামের হোটেল আছে। হায়দ্রাবাদ রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘেও থাকা যায়, তবে আগে থেকে কথা বলে রাখতে পারলে ভালো হয়। কিন্তু করোনার সময় থেকে রামকৃষ্ণ মিশনের অতিথি নিবাস বন্ধ আছে, ভারত সেবাশ্রম খোলা। প্রসঙ্গতঃ বলি, রামকৃষ্ণ মিশন আর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার মতো হবে। রামকৃষ্ণ মিশনের গা ঘেঁসে হায়দ্রাবাদ বাঙালি সমিতির একটি গেস্ট হাউসে আছে, ওখানেও ঘর পাওয়া যায়।
৩. খাবেন কি?
প্রথমেই বলি হসপিটালের ক্যান্টিন সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে। সকালে ব্রেকফাস্ট থেকে দুপুরে লাঞ্চ এবং বিকেলের টিফিন সবই পাওয়া যায়, দামও বেশ ঠিকঠাক। এছাড়া গেস্ট হাউস ও হোটেল গুলোতে সুইগি বা জোম্যাটোর মাধ্যমে খাবার আনানো যায়। দুটি বাঙালি খাবারের জায়গা আছে, সরকার’স কিচেন এবং আমন্ত্রণ। আমন্ত্রণের একটি রেস্তোরাঁ রামকৃষ্ণ মিশনের গায়ে, হায়দ্রাবাদ বাঙালি সমিতির একতলায়। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ থেকেও এটি পায়ে হাঁটা দূরত্বে।
৪. ভাষা সমস্যা
হসপিটালের সমস্ত কর্মচারী এবং ডাক্তাররা হিন্দি এবং ইংরেজি বুঝতে এবং বলতে পারেন ( চলনসই বাং-হিন্দিতেই কাজ চালানো যায়)। সমস্ত অটো ড্রাইভার, দোকানদার সকলেই হিন্দি বলতে এবং বুঝতে পারেন।
কেউ যদি ওখানে চিকিৎসা করাতে চান অথচ এই সমস্ত সমস্যার কথা ভেবে দ্বিধাণ্বিত বোধ করছেন, তাহলে বলবো যে নিশ্চিন্তে চলে যেতে পারেন মনে হয় তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।
এখানকার বিখ্যাত ডক্টরদের লিস্টঃ
Dr. Ramesh Kekunnaya Ophthalmologist – MD, FRCS
Hyderabad
21 Years Experience
Dr. Anil K Mandal
Ophthalmologist – MBBS, MD
Hyderabad
35 Years Experience
Dr. Muralidhar Ramappa
Ophthalmologist – MBBS, MD
Hyderabad
17 Years Experience
Dr. Pravin V Krishna
Ophthalmologist – MBBS, MS
18 Years Experience
Hyderabad
Dr. Mohammad Javed Ali
Ophthalmologist MBBS, MD, FRCS, FRCGP
Hyderabad
Dr. Subhadra Jalali
Ophthalmologist – MBBS, MS
Hyderabad
31 Years Experience
Dr. Sirisha Senthil
Ophthalmologist – MBBS, MS, FRCS
Hyderabad
20 Years Experience
Dr. Sayan Basu
Ophthalmologist – MBBS, MS
Hyderabad
1 Hospital
12 Years Experience
Dr. Swathi Kaliki
Ophthalmologist – MBBS, MD, DNB
Hyderabad
Dr. Raja Narayanan
Ophthalmologist
MBBS, MS, Fellowship (Medical
Retina & Vitreo-Retinal Diseases)
Dr. Prashant Garg
Ophthalmologist – MBBS, MS
Hyderabad
Dr. Bhupesh Bagga
Ophthalmologist MBBS, DOMS, FRCS
Dr. Mudit Tyagi
Ophthalmologist – MS
Hyderabad
Dr. Rajeev R Pappuru
Ophthalmologist – MBBS, MS
Hyderabad
Dr. Somasheila Murthy
Ophthalmologist – MBBS, MS
Hyderabad
Dr. Padmaja Kumari Rani
Ophthalmologist – MS
Hyderabad
Dr. Milind N Naik
Ophthalmologist – MBBS, MD
Hyderabad
Dr. Sunita Chaurasia Ophthalmologist – MBBS, MS
Hyderabad
Dr.G. Chandra Sekhar
Ophthalmologist – MBBS, MD, FRCS
Hyderabad
36 Years Experience

